মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় এবং মোবাইল স্লো হলে করনীয় কি?

প্রযুক্তি প্রিয় বন্ধু, আপনার মোবাইল ফোন কি স্লো হয়ে গেছে? মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় সম্পর্কে আপনি কি জানতে চান? আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, আজকে আমরা এখানে আলোচনা করব মোবাইল স্লো হলে করনীয় কি? এবং তার সাথে আরো কিছু আনুসাঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে।

মোবাইল-ফোন-ফাস্ট-করার-উপায়

মোবাইল ফাস্ট করার উপায়, অ্যান্ড্রয়েড ফোন স্লো হলে করণীয়, ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর বাস্তবসম্মত টিপস সম্পর্কে চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট সূচিপত্র: মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায়

মোবাইল ফোন স্লো হওয়ার মূল কারণ কী?

আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি এক সময় যে নিখুঁতভাবে কাজ করত, চোখের পলকে অ্যাপ খুলত এবং খুবই স্মুথ কাজ করত এখন সেই স্মার্টফোনটি একটি অ্যাপ্লিকেশন খুলতে বা চালু করতে লোড হতে লোড হতে আপনাকে বিরক্ত করে দিচ্ছে। আমরা অনেকেই প্রায় কোনো না কোনো সময় এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকি। দামি ফোন হোক বা কম বাজেটের, কিছুদিন ব্যবহার করার পর মোবাইল স্লো হতে শুরু করে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি, বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ফোন পুরাতন হয়ে গেছে বলেই ধীরে কাজ করে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। মোবাইল স্লো হওয়ার পেছনে থাকে অনেকগুলো মেজর কারণ, যেমন স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া, অপ্রয়োজন অ্যাপ জমে থাকা, ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলো অ্যাপ একসাথে চালু থাকা, সফটওয়্যার আপডেট না দেওয়া, এমনকি ভুল চার্জিং অভ্যাসগুলো হচ্ছে আমাদের ফোন স্লো হওয়ার মেজর কারণ।

আমরা ধাপে ধাপে এই আর্টিকেলের মধ্যে জানবো, মোবাইল স্লো হয় কেন? মোবাইল স্লো হলে কি করব? মোবাইল ফাস্ট করার উপায়, কোন ভুলগুলোর কারণে ফোন স্লো হয়ে যাচ্ছে? সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে।

মোবাইল ফোন স্লো হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

মোবাইল স্লো হওয়া কোনো জাদুর ব্যাপার না। এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে, যেগুলো আমরা প্রায়ই এড়িয়ে যাই। কি সেই নির্দিষ্ট কারণ?

  • স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া: মোবাইল ফোন স্লো হওয়ার কারণ হিসেবে আমাদের চোখে পড়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, স্টোরেজ ফুল হয়ে যাওয়া। আমাদের ফোনে যখন ইন্টারনাল স্টোরেজ ৮০ শতাংশের বেশি ভরে যায়, তখন ফোনের পারফরম্যান্স অনেকটা কমে যায় এবং ফোন ধীরে ধীরে স্লো হতে থাকে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, স্টোরেজ ফুল হয়ে গেলে ফোনের সিস্টেমের কাজ করার জন্য ফাঁকা জায়গা থাকে না। আর কাজ করার মতো পরিমাণ অনুযায়ী ফাঁকা জায়গা না থাকার কারণে ফোন খুব ধীর গতিতে কাজ করে।
  • ফোনের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থাকার কারণে: আমরা অনেক সময়, অনেক কাজের উদ্দেশ্যে অনেক অ্যাপ ইনস্টল করে থাকি। আর কাজ ফুরিয়ে গেলে আমরা এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করি না। সেই অ্যাপগুলো ব্যবহার না করার ফলে সেগুলো আমাদের ফোনে জমে থাকে আর জমে থাকা অ্যাপগুলো আমাদের ফোনের স্টোরেজ দখল করে থাকে। এই অ্যাপগুলো শুধু জায়গা দখন করে থাকে না বরং অনেক সময় এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রান থেকে ফোনের র‌্যাম ও ব্যাটারি খরচ করে।
  • ফোনের র‌্যাম কম থাকা: অনেকের ফোনের র‌্যাম কম থাকার কারণে ফোন স্লো কাজ করে থাকে। ২ জিবি বা ৪ জিবি র‌্যামের ফোনে একসাথে অনেক অ্যাপ চালালে ফোন ধীর হয়ে যায়। এটি হার্ডওয়্যার সীমাবন্ধতা করে, কিন্তু কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করা: আমরা অনেকেই ফোনে আপডেট আসার পরেও ফোনকে আপডেট করি না, আমরা অনেকেই এই আপডেটের বিষয়টি এড়িয়ে যায়। অথচ এই আপডেটগুলো আসে আমাদের ফোনকে ফাস্ট কাজ করাতে এবং ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার দূর করতে। নতুন আপডেটের ফলে ফোনের পারফরম্যান্স যেমন উন্নত হয় তেমন বিভিন্ন বাগ সমস্যার সমাধান হয়।
  • ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের কারণে: অনেক সময় আমরা প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোরের বাহিরে গিয়ে বিভিন্ন থার্টপার্টি জায়গা থেকে অ্যাপ ইনস্টল করে থাকি। বাইরে থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ফোনে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে পড়তে পারে, যা ফোন স্লো করে দেয়।
  • ভুলভাবে চার্জিং করা: আমরা অনেকেই ফোনকে ভুলভাবে চার্জ করে থাকি। ফোনে চার্জ থাকার পরেও আমরা ফোনকে আবার চার্জে লাগাই। ৫-১০% চার্জ শেষ হতে না হতে আমরা ফোনকে আবার চার্জে লাগিয়ে দেয়। বারবার চার্জে দেওয়ার কারণে ফোনের ব্যাটারির উপর চাপ পড়ে এবং ব্যাটারি ড্রেইন হতে পারে। আর ব্যাটারির সমস্যা থেকে ফোন স্লো কাজ করে থাকে।

আমরা উপরে যে কারণগুলো সম্পর্কে জেনে আসলাম এগুলো মূলত ফোন স্লো হওয়ার প্রধান কারণসমূহ। তাই আমাদের এই কারণগুলো বোঝা খুব জরুরি। কেননা কারণ না বুঝলে সমাধান পাওয়া যাবে না।

মোবাইল ফোন ফাস্ট করার সহজ কিছু কার্যকর উপায়

এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় কি তা নিয়ে। নিচে আমরা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছি যা খুবই কার্যকর এবং অনেক ব্যবহারকারীকেও আমি নিজেই সাজেস্ট করেছি।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করা

আমাদের ফোন অনেকাংশ ভারী হয়ে থাকে ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর জন্য। আমাদের সর্বপ্রথম যেটি করনীয় হবে, যে অ্যাপগুলো আমরা ব্যবহার করি না সেগুলো আনইনস্টল করা। বিশেষ করে ভারী গেম, পুরোনো টুল জাতীয় অ্যাপ ও হেভি অ্যাপগুলোকে ডিলিট করে ফেলা। এর সাথে সাথে আমাদের ফোনে থাকা প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর ডাটা ক্লিন করা, ডাউনলোড ফোন্ডার পরিষ্কার করা, হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া চেক করে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করা এবং ডুপ্লিকেট ছবি বা ভিডিও ডিলিট করা।

ক্যাশ ডাটা পরিষ্কার করা

ক্যাশ ডাটা মূলত অ্যাপগুলোকে দ্রুত খুলতে সাহায্য করে থাকে। এই ডাটা বিভিন্ন অ্যাপ খুলতে ও ব্রাউজিং করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের নিকট উপস্থাপন করে থাকে। কিন্তু এই ডাটা যদি বেশি জমে যায় তবে সেটি উল্টো সমস্যা করে। তাই মাসে অন্তত একবার ক্লিয়ার করা আমাদের ফোনের জন্য ভালো।

অ্যানিমেটেড ওয়ালপেপার বন্ধ করা

আমরা অনেকে আছি যারা ফোনকে আকর্ষনীয় দেখানোর জন্য বিভিন্ন অ্যানিমেটেড বা লাইভ ওয়ালপেপার ফোনের মধ্যে সেট করে থাকি। মূলত এই ওয়ালপেপার দেখতে সুন্দর হলেও এটি ব্যাটারি ও র‌্যামের উপর প্রভাব সৃষ্টি করে এবং শক্তি খরচ করতে বাধ্য করে। তাই আমাদের উচিত হবে অ্যানিমেটেড ওয়ালপেপার ব্যবহার না করে সাধারণ ওয়ালপেপার গুলোকে ব্যবহার করা।

ইন্টারনাল স্টোরেজ ফাঁকা রাখা

আমাদের অনেকের ফোনের স্টোরেজ স্বল্পতা থাকায় ফোন অনেক ভারী হয়ে যায়, আর ফোন ভারী হলে তো স্লো করবে এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাই আমাদের উচিত ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইল, ছবি, ভিডিও পুরোপুরি ডিলিট করে ফেলা। আর যাদের ফোনে SD কার্ড বা মেমোরি কার্ড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে তারা একটি মেমোরি কার্ড লাগিয়ে ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোকে মেমোরি কার্ডে সরিয়ে নিয়ে ইন্টারনাল স্টোরেজকে ফাঁকা রাখা।

এই ছোট ছোট কাজগুলো একসাথে করলে অনেক সময় ফোন নতুনের মতো ফাস্ট কাজ করতে শুরু করে। এই ছোট ছোট কাজগুলোর সাথে আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে জানবো। চলুন তবে আরো কয়েকটি মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মোবাইল ফোন ফাস্ট করাতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও অটো স্টার্ট নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ আমাদের ফোনকে অনেক দুর্বল করে দেয়। আমাদের অজান্তে অনেক অ্যাপ ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু অবস্থায় থাকে, আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনেক ব্যবহারকারী সেই বিষয়টি সম্পর্কে জানে না। তারা জানে না যে, ফোন লক থাকা অবস্থাও অনেক অ্যাপ কাজ করে যাচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা অ্যাপগুলো কিভাবে ফোনের ক্ষতি করে থাকে? এই অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আর ইন্টারনেট ব্যবহার করলে তো প্রসেসরের উপরও চাপ পড়ে, এছাড়া র‌্যাম দখল করে, ব্যাটারির উপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে দেয়।

মোবাইল-ফোন-ফাস্ট-করাতে-ব্যাকগ্রাউন্ড-অ্যাপ-ও-অটো-স্টার্ট-নিয়ন্ত্রণের-ভূমিকা

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, হোয়াস্টঅ্যাপ, নিউজ অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে থাকে। তাদের আমাদের উচিত এগুলোকে বন্ধ করা। এগুলোকে কিভাবে বন্ধ করা যায় চলুন জেনে আসি:

  • প্রথমে আপনার ফোনের সেটিংস এ যাবেন, সেখান থেকে অ্যাপ বা অ্যাপ্লিকেশন নামে একটি অপশন পাবেন সেখানে যাবেন।
  • এরপর সেখানে দেখবেন আপনার ফোনে ইনস্টল করা সব অ্যাপ শো করবে, সেখান থেকে আপনি যে অ্যাপটির ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বন্ধ করতে চান সেটিতে ক্লিক করবেন।
  • ক্লিক করার পর ব্যাটারি ইউজ বা ব্যাকগ্রাউন্ড ইউজ নামে অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করে রেস্ট্রিকশনে ক্লিক করে দিলেই আপনার কাজ শেষ।

মোবাইল ফোন ফাস্ট করতে সফটওয়্যার আপডেট ও সিস্টেম অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব

মোবাইল স্লো হলে করনীয় কি? আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ধাপে ধাপে জেনে আসছি। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক মোবাইল ফোন ফাস্ট করতে সফটওয়্যার আপডেট ও সিস্টেম অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে।

ফোনের সফটওয়্যার আপডেট মূলত আমাদের ফোনকে ফাস্ট কাজ করতে ও ফোনের মধ্যে থাকা ম্যালওয়্যার-ভাইরাস দূর করতে অনেক কার্যকর। এছাড়া ফোনের ভেতরে থাকা অনেক বাগ যা ফোনকে স্লাে করে দেয়, এই সব জিনিস ফিক্সড করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অনেকের ধারণা, আপডেট দিলে ফোন স্লো হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা। ফোনকে আপডেট দিলে ফোনের সিকিউর সিস্টেম আপডেট হয়, পারফরম্যান্স উন্নত হয় ও বিশেষ করে বিভিন্ন বাগ রিমুভ হয়ে যায়।

তাই আমাদের উচিত ফোন যখন একটি নির্দিষ্ট সময় আপডেট চাবে তখন তাকে সাথে সাথে আপডেট করে নেওয়া। এতে ফোন যেমন ফাস্ট কাজ করবে, তেমন ফোনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও হবে।

মোবাইল স্লো হয়ে গেলে আমরা যেসব ভুল নিজেরাই করে থাকি

ফোন স্লো হয়ে গেলে আমরা অস্তির হয়ে পড়ি, চিন্তা করি যে ফোনের কি হলো? কিভাবে এটি হলো? কিভাবে এটিকে ঠিক করা যায়? এই অস্তিরতার বশে আমরা অনেক সময় ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি, যা আমাদের ফোন আরো বেশি পরিমাণে স্লো হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ করে দায়ী।

  • ফোনকে ফাস্ট করার জন্য আমরা প্রথমে যেটি করি তা হলো, একাধিক ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করা। একসাথে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করে ফোনকে ফাস্ট করতে চাইলে ফোন তো ফাস্ট হবেই না বরং আরো স্লো হয়ে যাবে। তাই একটি ভালো ও ট্রাস্টেড ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত
  • আমরা অনেকেই ব্যাটারি সেভার অপশনটি সব সময়ের জন্য চালু করে রাখি, যা আমাদের ফোনের পারফরম্যান্সকে সীমিত করে দেয়। তাই এটিকে সব সময়ের জন্য ব্যবহার না করে কঠিন সময়গুলোতে ব্যবহার করা, যখন আপনার চার্জের খুবই প্রয়োজন তখন এটিকে ব্যবহার করুন।
  • ফোনকে সব সময় তার নির্দিষ্ট চার্জার দিয়ে চার্জ না করার কারণে ফোন স্লো হয়ে যায়। আমাদের ফোনের আসল চার্জার যখন নষ্ট হয়ে যায় বা কোথাও নিয়ে যেতে ভুলে যায়, তখন হাতের কাছে থাকা যেকোনো চার্জার দিয়ে ফোনকে চার্জ করি, যা একটি ভুল পদক্ষেপ। আপনি যে চার্জারটি দিয়ে চার্জ করছেন সেটি আপনার ফোনের ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে, আর এই চার্জার দিয়ে ফোনকে চার্জ করার ফলে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা ব্যাটারি দুর্বল হতে পারে। তাই সব সময় ফোনকে তার নির্দিষ্ট চার্জার দিয়ে চার্জ করবেন।
  • আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, ফোনকে রিস্টার্ট না করা। আমাদের উচিত সপ্তাহে একবার হলেও ফোনকে রিস্টার্ট করা। রিস্টার্ট বলতে হার্ড ক্লিন নয় বরং সাধারণভাবে ফোনের পাওয়ার বোতাম চেপে ধরে যে আমরা রিস্টার্ট করি সেটি। ফোনকে সপ্তাহে একবার রিস্টার্ট করুন, দেখবেন ফোন একটু হলেও ফাস্ট কাজ করবে।

আমরা যদি এ ভুল গুলোকে এড়িয়ে চলি এবং সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করি তবে আমাদের ফোনের কোনো সমস্যা হবে না বরং ফোন কাজ করবে রকেটের গতিতে।

র‌্যাম কম হলেও মোবাইলকে ফাস্ট রাখার বাস্তব কিছু কৌশল

মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় গুলোর মধ্যে একটি কার্যকর উপায় হচ্ছে আমাদের আর্টিকেলের এই পয়েন্টটি। আমাদের অনেকের ফোনের র‌্যাম স্বল্প। র‌্যাম স্বল্প থাকার কারণে কিন্তু ফোন বেশি স্লো হয়ে থাকে। কাজ করতে করতে ফোন স্লো হয়ে গেলে অনেকে মনে করেন এই ফোনটি দিয়ে আর কিছু করা যাবে না। বাস্তবে একটু বুদ্ধি করে ব্যবহার করলে কম র‌্যামেও আপনি ফোনের পারফরম্যান্স ভালো পাবেন। কিভাবে পাবেন চলুন আপনাদের জানায়-

র_্যাম-কম-হলেও-মোবাইলকে-ফাস্ট-রাখার-বাস্তব-কিছু-কৌশল

  • প্রথমে আপনাকে যেটি করতে হবে, একসাথে অনেক অ্যাপ খুলে রাখা বন্ধ করুন। আমরা প্রায় সময় একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ চালু রাখি। এতে র‌্যাম ফুল হয়ে যায়। দরকার নেই এমন অ্যাপগুলোকে রিসেন্ট অ্যাপস থেকে ক্লোজ করে ফোন ব্যবহার করুন।
  • কম র‌্যামে ফোনের পারফরম্যান্স যদি ভালো পেতে চান তবে, সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপগুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করুন। উদাহরণ হিসেবে: ফেসবুক লাইট, ম্যাসেঞ্জার লাইট, ইউটিউব লাইট, গুগল গো বা ব্রাউজার দিয়ে ব্যবহার করুন। এই অ্যাপগুলোর কম র‌্যাম ব্যবহার করে এবং অ্যাপগুলোর সাইজ অনেক অনেক কম, সাথে এগুলো ডাটাও কম ব্যবহার করে থাকে।
  • ফোনের স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট করুন। স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট হচ্ছে মোবাইল ফাস্ট রাখার মেরুদণ্ড। অনেক ইউজার রয়েছে যারা র‌্যামের দিকে নজর দেয়, কিন্তু স্টোরেজের দিকে তেমন নজর দেয় না, যা তাদের ফোনকে স্লো করাতে দায়ী। আপনার প্রথম কাজ হবে, ফোনে ২০-৩০ শতাংশ স্টোরেজ ফাঁকা রাখা। কেননা, সিস্টেম ফাইল, আপডেট এবং অ্যাপ ক্যাশ ঠিকভাবে কাজ করতে এই জায়গা দরকার হয়। আমি বহু ফোনে দেখেছি, শুধু স্টোরেজ ঠিক করার পরই ব্যবহারকারী বলে ফোন একদম নতুনের মতো লাগছে।
  • ফোনের ডিসপ্লের অ্যানিমেশন স্কেল কমান। আপনার ফোনের Developer Options চালু করে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale 0.5x বা Off করুন, এতে ফোন অনেক দ্রুত মনে হবে। এটা কোনো ট্রিক না, বাস্তব অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত।
  • সর্বশেষ, ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা উইজেট, লাইভ ওয়ালপেপার বন্ধ রাখুন। এগুলো দেখতে ভালো লাগলেও প্রচুর র‌্যাম খরচ করে।

কম র‌্যাম বলে যে ফোন চলবে না, এই ধারণা ঠিক না। একটু সচেতন ও ব্যবহারের দিকে নজর দিলেই ফোনের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন।

মোবাইল ফাস্ট করার যেসব ভুয়া ট্রিক ও মিথ থেকে সাবধান থাকা দরকার

আমরা ধাপে ধাপে জেনে আসছি মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় এবং মোবাইল স্লো হলে করনীয় কি? সে সম্পর্কে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক এই ফোনকে ফাস্ট করতে ভুয়া কিছু ট্রিক ও মিথগুলো কি সেগুলো সম্পর্কে।

  • আমরা ইউটিউবে অনেক ভিডিওতে দেখি যেখানে বলা হয়, মাত্র এক ক্লিকে মোবাইল সুপার ফাস্ট হয়ে যাবে। বাস্তবে এসবের বেশিরভাগই বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া জিনিস। অনেক সময় আমরা এসব ভুয়া ট্রিক অনুসরণ করতে গিয়ে ফোনের আরো সমস্যা তৈরি করে কির এবং ফোন এতে আরো স্লো হয়ে যায়। চলুন কিছু ভুয়া ট্রিকগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানিয়ে দেয়।
  • আমাদের মাঝে সবচেয়ে প্রচলিত মিথ বা ধারণা হলো র‌্যাম বুস্টার অ্যাপ। অনেক ভিডিওতে আমরা দেখি এই অ্যাপগুলো আমাদের ফোনের র‌্যাম বাড়িয়ে দিতে পারে। আসলে অ্যান্ড্রয়েড নিজেই র‌্যাম ম্যানেজ করে। জাের করে অ্যাপ ক্লোজ করলে সিস্টেম আবার সেগুলো খুলে দেয়, ফলে উল্টো বেশি র‌্যাম খরচ হয় এবং ফোন ধীর বলে মনে হয়। তাই র‌্যাম বুস্টার হচ্ছে একটি ভুয়া ধারণা।
  • আরেকটি ভুয়া ধারণা হলো একাধিক ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করা। আমরা মনে করি, একাধিক ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করলে ফোন দ্রুত হবে। বাস্তবে এটি ভুল ধারণা। একাধিক ক্লিনার অ্যাপ একসাথে চললে তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ তৈরি করে। এতে ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বাড়ে, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয় এবং ফোন গরম হতে থাকে।
  • অনেকে আবার বলে, প্রতিদিন ক্যাশ ক্লিয়ার করলে ফোন ফাস্ট থাকবে। সত্যি বলতে, খুব ঘন ঘন ক্যাশ ক্লিয়ার করলে অ্যাপ আবার নতুন করে ডেটা লোড করে, ফলে ফোন আরো ধীর মনে হতে পারে। ক্যাশ ক্লিয়ার করা দরকার, কিন্তু সেটা মাসে এক বা দুইবারই যথেষ্ট।
  • আরেকটি বিপজ্জনক ধারণা হলো, অজানা APK ইনস্টল করা। এসব অজানা জায়গা থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে অ্যাপের ভেতরে অনেক সময় ম্যালওয়্যারযুক্ত থাকে। এতে ফোনের ডেটা ঝুঁকিতে পড়ে এবং পারফরম্যান্স মারাত্মকভাবে কমে যায়।

মোবাইল ফোন ফাস্ট করার কোনো ম্যাজিক শর্টকাট নেই এটি বাস্তব। আপনি যদি সঠিকভাবে, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে সমাধান পেতে চান হবে আমাদের উপরে বলা মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় গুলো অবলম্বন করে আপনার ফোনকে ফাস্ট করে নিতে পারে। আর হ্যাঁ ভুয়া ট্রিক ও মিথগুলো থেকে বিরত থাকবেন। আমরা যদি ফোন ব্যবহারের সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলি তবে ফোন আমাদের ভালো কাজ করবে। আর ভুয়া ট্রিকের লোভে পড়লে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

শেষ মন্তব্য

প্রযুক্তি প্রিয় বন্ধু, আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নিলাম মোবাইল স্লো হলে কি করব ও মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় সম্পর্কে। মোবাইল ফোন স্লো হয়ে যাওয়া এখন খুব স্বাভাবিক একটি সমস্যা। কিন্তু ভালাে খবর হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সমাধান আমাদের হাতেই থাকে। আমরা এই আর্টিকেলে আপনাকে জানিয়েছি ফোন ফাস্ট করার উপায় সম্পর্কে। মনে রাখবেন, মোবাইল ফাস্ট করার জন্য সব সময় নতুন ফোন কেনা জরুরি নয়। বরং স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সেটিংস ব্যবহার এবং ভালো ব্যবহার অভ্যাসই সবচেয়ে বড় সমাধান।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার কমেন্টের যথাযথ উত্তর আমরা আপনাকে প্রদান করব। আর এমন আরো টেকনোলজি সমস্যার সমাধান পেতে আমাদের সাইটটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করুন। এখানে বিভিন্ন টেক সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url