ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যায় কেন
আমাদের অনেকের ফোনের চার্জ অজান্তে চলে যায় তবুও আমরা সেদিকে লক্ষ্য রাখিনা।
ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যাওয়া ফোনের ব্যাটারির একটি খারাপ লক্ষণ। এই সমস্যা
যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে ফোনের সমস্যা হতে পারে এবং ফোন নষ্টও হয়ে যেতে পারে।
আর ফোন না চালিয়েও যদি ফোনের চার্জ দ্রুত কেটে নেওয়া হয় তবে এটি খুবই দুঃখজনক
একটি বিষয়। চলুন তবে জেনে আসি এই সমস্যা মূলত কেন হয়।
অনেক সময় ফোনের ভেতরের প্রসেসর ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন কাজ করে যেগুলো আমরা চোখে
দেখতে পাই না। যেমন সিস্টেম আপডেট চেক করা, অ্যাপের ডেটা সিঙ্ক করা,
নোটিফিকেশন রিফ্রেশ করা বা স্টোরেজ স্ক্যান করা। এসব কাজ চলতে থাকলে ফোনের
ব্যাটারি স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত কমে যায়। আবার কখনো ফোনের সেটিংস
ঠিকভাবে অপটিমাইজ না করা থাকলে চার্জ কমে যাওয়ার গতি আরও বাড়ে। যেমন
স্ক্রিন বেশি সময় অন থাকা, অটো ডাউনলোড চালু থাকা, অতিরিক্ত ভাইব্রেশন
ব্যবহার করা-সব মিলিয়ে ব্যাটারি ড্রেইন হয়। অনেক সময় মানুষ ভাবে ফোন নষ্ট
হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে সমস্যা ছোট ছোট সেটিংস থেকে শুরু হয়। এগুলো ঠিক করলে
চার্জ ড্রেইন অনেকটাই কমে যায়।
আরেকটি বড় কারণ হলো ফোনের হার্ডওয়্যার অবস্থা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়, এটাকে বলে ব্যাটারি হেলথ। ব্যাটারি হেলথ কমে গেলে
ফোন আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না। এমনকি আপনি কিছু না করলেও চার্জ
অটোমেটিক কমতে থাকে। অনেকেই আবার বেশি সময় চার্জে লাগিয়ে রাখেন, এতে
ব্যাটারি গরম হয় এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফোন গরম হলে ব্যাটারি সবচেয়ে
দ্রুত কমে যায়। আবার নকল চার্জার বা ক্যাবল ব্যবহার করলেও ব্যাটারির মান
দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যার কারণে চার্জ অটোমেটিক কমে যাওয়া স্বাভাবিক
হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া আরও কিছু নজরকাড়ার মতো সমস্যা রয়েছে, যেমন ফোনের লোকেশন, ব্লুথুট,
ওয়াইফাই বিনা প্রয়োজনে চালু রাখা, ডিসপ্লে ব্রাইটন্সে অতিরিক্ত বাড়িয়ে রাখা,
ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ চালু রাখা এগুলো আমাদের জাতীয় কারণ। আর
এগুলোর জন্য মূলত আমাদের ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং ফোন
ব্যবহার না করলেও। তাই আপনি যদি প্রশ্ন করেন ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে
যায় কেন তবে তার জবাব হলো এগুলো। এখন প্রশ্ন আসে করণীয় কি তবে? চলুন ধীরে
ধীরে সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে জেনে নেওয়া যাক।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের কারণে চার্জ কেন দ্রুত কমে যায়
ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে কারণগুলোর মধ্যে একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ফোনের
ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ চালু রাখা। আমরা অনেকে আছি যারা ফোনে
অনেকগুলো অ্যাপ একসাথে চালু করে রাখি, কিন্তু এই এতগুলো অ্যাপের মধ্যে আমরা
শুধু মাত্র একটি অ্যাপ ব্যবহার করছি। আমরা জানিই না, যে অ্যাপগুলো আমরা
ব্যবহার করছিনা কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু বা রান অবস্থায় রয়েছে সেগুলো
কিন্তু ব্যাটারির উপর প্রভাব ফেলছে এবং ব্যাটারির চার্জ নিজের অজান্তে কেটে
নিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাপ ভারী ডেটা ব্যবহার করে বা বেশি র্যাম নেয়,
সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে ব্যাটারি খরচ সবচেয়ে বেশি হয়। মানুষ সাধারণত
ভাবেন, স্ক্রিন বন্ধ মানেই অ্যাপ বন্ধ, কিন্তু বাস্তবে অ্যাপগুলো লুকিয়ে কাজ
করে যায়। যার ফলে চার্জ দ্রুত কমে যায় এবং ফোনও ধীরে ধীরে গরম হতে থাকে।
এগুলোই ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের বড় সমস্যা, কারণ এগুলো চোখে দেখা যায় না
কিন্তু ব্যাটারির ক্ষতি করে।
আরেকটি বিষয় হলো, অনেক ফোনে অটো-সিঙ্ক অপশন সক্রিয় থাকে। এতে ফোন নিয়মিত
ছবি, ভিডিও, কনট্যাক্ট এবং অ্যাপ ডেটা ক্লাউডে পাঠায়। এতে ব্যাটারি আরও
দ্রুত শেষ হয়। আবার কিছু অ্যাপ এমনভাবে বানানো যে এগুলো বন্ধ করলেও আবার
নিজে থেকেই চালু হয়। এসব অ্যাপ ফোনের রিসোর্স ব্যবহার করে চার্জ খরচ
বাড়িয়ে দেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি অ্যাপ চললে ব্যাটারি হেলথও ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। তাই ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ী রাখতে হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড
অ্যাপ বন্ধ করতে হবে, অ্যাপ পারমিশন কমাতে হবে এবং সিস্টেম অপটিমাইজেশন
ব্যবহার করতে হবে। এতে ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং চার্জও তুলনামূলক
ধীরে কমে যাবে।
স্ক্রিন ব্রাইটন্সে ফুল হয়ে থাকে চার্জ দ্রুত কমে যায় কিভাবে?
ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যাওয়ার আরো একটি কারণ হিসেবে রয়েছে ফোনের
ব্রাইটন্সে অতিরিক্ত করে রাখা। আপনার ফোনের ব্রাইটন্সে বা ডিসপ্লে উজ্জ্বলতা
যদি ফুল করে রাখেন তবে ফোনের চার্জ দ্রুত কমে যাবে এবং এই ফুল ব্রাইটন্সে
ফোনের প্রসেসর উপর চাপ সৃষ্টি করে, সাথে ফোনকে গরমও করে ফেলে। তাই আমাদের
উচিত ফোনের ব্রাইটন্সকে কন্টেলে রাখা। আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় অটো
ব্রাইটন্সে সিস্টেম অন করে রাখা। এতে করে ফোন তার তাপমাত্রা ও বাহিরের
উজ্জ্বলতার সহিত খাপ খায়ে নির্দিষ্ট ব্রাইটন্স আমাদের প্রদান করবে। আমরা যদি
এই অটো ব্রাইটন্সে সিস্টেমটি অন করে রাখি তবে আমাদের আর ঘনঘন ব্রাইটন্সে
কমাতে-বাড়াতে হবেনা। ফোন তখন অটোমেটিক বাহিরের ও ঘরের ভেতরের আলোর অনুপাতে
তার স্ক্রিনের ব্রাইটন্সে কমা-বাড়া করতে থাকবে।
ভুল চার্জিং অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে চার্জ কমে যায় কিভাবে?
আমাদের আরেকটি সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে ফোনের চার্জিং অ্যাডাপ্টার যদি ফোনের
ব্যাটারির সাথে মিল না খায় তবে ফোনের ব্যাটারির উপর প্রভাব পড়ে আর আমার মূলত
এই বিষয় কোনো তোয়াক্কা করিনা। অনেকে মনে করে যে যেকোনো চার্জার দিয়ে ফোন
চার্জ দিলেই হবে। আমাদের জানা উচিত, ফোনের ব্যাটারি নির্দিষ্ট ভোল্টেজ ও
অ্যামপিয়ারের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। আমরা যদি কম ক্ষমতার অ্যাডাপ্টার
ব্যবহার করি, তবে ব্যাটারি প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। এতে চার্জ ধীরে প্রবেশ
করে এবং ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ নিতে পারে না। এই অসম্পূর্ণ চার্জ সেলগুলোর
উপর চাপ ফেলে, ফলে ব্যাটারি দ্রুত নেমে যায়। আবার খুব বেশি ওয়াটের
অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলেও সেলের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যা ব্যাটারির
আয়ু কমিয়ে দেয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো নকল বা সস্তা অ্যাডাপ্টার। আমাদের ফোনের সাথে থাকা
চার্জার যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন আমরা বাজার থেকে অন্য আরেকটি চার্জার কিনে নিয়ে
আসি। কিন্তু বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসা চার্জার বা অ্যাডাপ্টার আদৌও কি আমাদের
ফোনের ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত কি-না আমরা সেটি জানিনা। মনে রাখবেন, নকল বা
সস্তা অ্যাডাপ্টার ব্যাটারির ভেতরে বিদ্যুৎ প্রবাহ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে না। এগুলোতে প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি চিপ থাকে না বলে ব্যাটারি চার্জ খুব
দ্রুত ওঠানামা করে। এর ফলে ব্যাটারির স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। ব্যাটারি হেলথ কমে
গেলে চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। তাই ফোনের সঙ্গে দেওয়া কোম্পানি
অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।
সফটওয়্যার বাগ বা আপডেট সমস্যায় ব্যাটারি ড্রেইন
ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যায় কেন এই প্রশ্নের আরেকটি উত্তর হচ্ছে আমাদের
আর্টিকেলের এই পয়েন্টটি। আমরা সকলে ফোনের সফটওয়্যার আপডটে সম্পর্কে পরিচিত।
ফোনে যেকোনো সফটওয়্যার আপডেট আসলে তা নতুন ফিচার যুক্ত করার জন্য আসে।
কিন্তু অনেক সময় নতুন আপডেটে এমন কিছু বাগ থেকে যায়, যা ব্যাটারি দ্রুত শেষ
করে ফেলে যেমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ সঠিকভাবে বন্ধ না হয়ে অযথা
ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। আবার কখনও কখনও সিস্টেম প্রসেস বারবার রিস্টার্ট
হয়ে ফোনের প্রসেসরকে বেশি কাজ করতে বাধ্য করে। এসব কারণে ব্যাটারির শক্তি
দ্রুত কমে যায়।
এছাড়া পুরনো সফটওয়্যার দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও ব্যাটারি সমস্যা দেখা দিতে
পারে। কারণ পুরনো সিস্টেম নতুন অ্যাপগুলোর সাথে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
এতে লোড বেড়ে যায় এবং প্রসেসর অযথা কাজ করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়।
এখন প্রশ্ন আসে এই সমস্যা থেকে কিভাবে সমাধান পাওয়া যাবে? আপনার করনীয়
হচ্ছে:
- নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা,
- বাগ দেখা দিলে ক্যাশ ক্লিয়ার করা বা সেফ মোডে চেক করা।
- প্রয়োজন হলে ফ্যাক্টরি রিসেট করেও সফটওয়্যার বাগ দূর করা।
লোকেশন, ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই অন থাকলে চার্জ কমে যায় কেন?
ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যাওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে ফোনের লোকেশন,
ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই বিনা কারণে অন রাখা। এখন প্রশ্ন আসে এগুলো অন থাকলে কিভাবে
ফোনের চার্জের উপর বা ব্যাটারির উপর প্রভাব ফেলে? জেনে নিন তবে:
-
লোকেশন বা GPS সবসময় আকাশ থেকে স্যাটেলাইট সিগন্যাল সংগ্রহ করে। এই
সিগন্যাল খোঁজার কাজটি অত্যান্ত শক্তি খরচ করে।
-
যদি আপনি লোকেশন বন্ধ না রাখেন, তবে ফোন ফাঁকা অবস্থায়ও সিগন্যাল খুঁজে
যাবে। এতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
-
একইভাবে ওয়াইফাই চালু থাকলে ফোন আশেপাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক চেক করে।
-
আর ব্লুটুথ চালু থাকলে কাছের ডিভাইস খোঁজে। এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়া
প্রসেসরকে সক্রিয় রাখে, যা ব্যাটারি ড্রেইন বাড়ায়।
-
এই তিনটি জিনিস মূলত আপনার অজান্তেই ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে তার কাজ করে থাকে
এবং ব্যাটারি সহ এর প্রসেসর ও র্যামের উপর প্রভাব ফেলে।
যদি আপনি এগুলোর কোনো একটিও ব্যবহার না করে থাকেন তবে এগুলো অফ করে রাখুন।
অনেকেই ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ ব্যবহার করেন না কিন্তু ভুলে অন রেখে দেন। এতে ফোন
বিনা কারণে তার শক্তি খরচ করে থাকে। আর আপনার ফোনে থাকা অ্যাপগুলোও লোকেশন
অনুমতি নিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে বারবার লোকেশন ব্যবহার করতে পারে। এই কারণে
ব্যাটারি দ্রুত নামতে থাকে। তাই দরকার ছাড়া ফিচারগুলো অফ করে রাখুন এবং
ব্যাটারি সেভ করে রাখুন।
ফোন গরম হলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যায় কেন?
আমাদের অনেকের ফোন ব্যবহার করতে করতে গরম হয়ে যায়, আবার ফোন চার্জিংয়ে দিলেও
দেখি ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। আমরা অনেকেই সন্দেহ করি যে, ফোন গরম হলে
ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যায়। তবে এই ঘটনা কি আসলেই সত্য নাকি আমাদের ভুল
ধারণা? চলুন তবে বিস্তারিতভাবে জেনে আসি।
ফোন বেশি গরম হলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত ঘটে এবং
শক্তি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির প্রাকৃতিক একটি সীমা আছে,
যেখানে এটি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। অতিরিক্ত তাপ সেই সীমা ভেঙে দেয়। গেম
খেলা, দীর্ঘসময় ভিডিও দেখা, ভারী অ্যাপ চালানো বা রোদে ফোন রাখা এসব কারণে
ফোন দ্রুত গরম হয়। গরম হলে ব্যাটারি শক্তি ধরে রাখতে পারে না এবং চার্জ কমে
যায়। আবার অনেক সময় গরমের কারণে ফোন নিজে থেকেই ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ
করে বা স্ক্রিন ডিম করে দেয়। এসব আচরণ দেখলে বুঝতে হবে ফোন অতিরিক্ত লোড
নিচ্ছে। তাই গরম কমাতে ফোনকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিন, কভার খুলে ব্যবহার করুন
বা ভারী অ্যাপ কম ব্যবহার করুন এতে করে ফোনের ব্যাটারি ভালো থাকবে এবং ফোন
গরম হওয়া থেকে রেহাই পাবে।
ব্যাটারি ড্রেইন বন্ধ করার কার্যকর উপায়
আমরা এযাবৎ বিস্তারিতভাবে জেনে নিলাম ফোনের চার্জ অটোমেটিক কমে যায় কেন
সে সম্পর্কে। এখন আমাদের জানতে হবে ব্যাটারিকে কিভাবে সুরক্ষা করা যায় এবং
ব্যাটারি ড্রেইন বন্ধ কিভাবে করতে হবে এর কিছু কার্যকর উপায় সম্পর্কে। তাই
চলুন বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
-
ব্যাটারি ড্রেইন বন্ধ করতে প্রথম কাজ হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ
বন্ধ করা।
-
সোশ্যাল মিডিয়া বা গেম অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর শক্তি খরচ করে। তাই
সেটিংস থেকে অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বন্ধ করলে ব্যাটারি সেভ করা
যায়।
-
স্ক্রিন ব্রাইটন্সে কমিয়ে রাখা, সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে অটো ব্রাইটন্সে
চালু করা,
- ফোনে আসা অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন অফ রাখা,
-
ফোনের সব সেন্সর সবসময় চালু রাখার দরকার নেই। বিশেষ করে লোকেশন, ব্লুটুথ,
মোবাইল ডাটা, ওয়াইফাই এসব ব্যবহার না করলে বন্ধ রাখা এতে ব্যাটারি অনেক
বেশি সময় ধরে থাকে।
- চাইলে পাওয়ার সেভিং মোড চালু রাখতে পারেন।
-
রোদে বা গরম জায়গায় ফোন ব্যবহার না করাও ব্যাটারি ড্রেইন কমাতে সাহায্য
করে।
আপনি যদি এই ছোট-ছোট নিয়মগুলোকে মেনে চলতে পারেন তবে আপনার ফোনের ব্যাটারি
হবে দীর্ঘস্থায়ী ও সুরক্ষিত।
ফোনের ব্যাটারি হেলথ চেক করার পদ্ধতি কি?
আমরা খুব সহজে আমাদের ফোনের ব্যাটারি হেলথ চেক করতে পারি। আমরা ম্যানুয়ালী
পদ্ধতিতে চেক করতে পারি আবার কিছু অ্যাপ্স ইনস্টল করেও দেখতে পারি। প্রথমে
চলুন জেনে আসি ম্যানুয়ালী পদ্ধতিতে কিভাবে দেখতে পারি সে সম্পর্কে।
অনেক ফোনেই এখন ব্যাটারি হেলথ দেখানোর ব্যবস্থা থাকে। আপনার ফোনের সেটিংসের
ব্যাটারি মেনুতে গিয়ে সহজেই জানতে পারবেন ব্যাটারির শক্তি আগের তুলনায়
কমেছে কি না। যদি ব্যাটারি হেলথ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে
চার্জ দ্রুত শেষ হওয়া স্বাভাবিক।
যেসব ফোনে ব্যাটারি হেলথ অপশন নেই, তারা প্লে স্টোর থেকে থার্টপার্টি অ্যাপ
ব্যবহার করে দেখতে পারেন। প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো
অ্যাকুরেট ব্যাটারি হেলথ দেখায়। আপনি যেটি করবেন, প্রথমে প্লে স্টোরে যাবেন
এরপর সার্চ বারে গিয়ে সার্চ করবেন 'Battery Health Checker' দেখবে অনেক
অ্যাপ শো করবে, এখান থেকে আপনি লক্ষ্য করবেন যেগুলো রেটিং বেশি এবং রিভিউ
ভালো সেগুলোর মধ্য থেকে একটিকে ইন্সটল করে দেখবেন।
শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক, আমরা আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে জেনে গেছি ফোনের চার্জ
অটোমেটিক কমে যায় কেন এবং এটি থেকে কিভাবে সমাধান পাওয়া যায় সে সম্পর্কেও
জেনেছি। আমরা যদি একটু সচেতন হয় তবে আমরা ফোনের ব্যাটারিকে সুরক্ষা করতে পারি
এবং ফোনের চার্জ অটোমেটিক কেটে যাওয়া বা কমে যাওয়া সমস্যা থেকে উত্তোরন হতে
পারি। প্রিয় পাঠক, আপনি যদি এই সমস্যায় ভোগেন তবে আপনি আমাদের বলা উপায়গুলো
ট্রেই করে দেখুন আপনি সফলতা পাবেন। আর আপনার যদি কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা
প্রিয়জনের এই সমস্যা হয়ে থাকে তবে তাকে আমাদের এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন এবং
তাকে বিষয়টি সমাধানের উপায়গুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিন।