খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
আপনার খুসখুসে কাশি হয়েছে, কথা বলতে গেলে কাশির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে আর তাই নিয়ে আপনি খুবই বিরক্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। আসলে এই খুসখুসে কাশি খুবই বিরক্তিকর একটি জিনিস। আমরা আজকে এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় কী তা নিয়ে।
খুসখুসে কাশি কেন হয়, খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায় ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তাই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
পোস্ট সূচিপত্র: খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
- খুসখুসে কাশি কেন এত বিরক্তিকর হয়ে থাকে?
- খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
- খুসখুসে কাশি কি? সহজ ভাষায় জেনে নিন
- খুসখুসে কাশি কেন হয়ে থাকে?
- খুসখুসে কাশি কখন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
- কোন খাবারগুলো খেলে এই কাশি বেড়ে যায় এবং কোনগুলো উপকারী খাবার?
- শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিরূপ সতর্ক থাকা প্রয়োজন?
- শেষ মন্তব্য
খুসখুসে কাশি কেন এত বিরক্তিকর হয়ে থাকে?
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
- মধু ও আদার রস: মধু ও আদার রস হচ্ছে সবেচেয় কার্যকর একটি উপায় এই খুসখুসে কাশিকে দূর করার জন্য। আপনার করনীয় হবে, এক চামচ খাঁটি মধুর সাথে সামান্য আদার রস মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খাওয়া। কেন এটি খাবেন? কেননা মধু গলার ভেতরের আঠালো ভাব দূর করে এবং আদা গলার ব্যথা কমিয়ে দেয়। গলায় খুসখুস দূর করার উপায় এ এটি খুবই কার্যকর এবং ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
- কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে গার্গল: এই উপায়টি খুবই সহজ একটি উপায়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে অন্তত ৩ বার গার্গল করুন। এটি গলার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং চুলকানি বা খচখচ ভাব কমিয়ে দেয়।
- তুলসী পাতা ও মধু: তুলসী পাতা ও মধু খুসখুসে কাশি দূর করতে অনেক সাহায্য করে। আপনি কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খান অথবা তুলসী পাতা সেদ্ধ করে সেই পানির সাথে মধু মিশিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। এই উপায়টি এটাই কার্যকর যে আপনার খুসখুস কাশি কমাতে অনেক সাহায্য করবে।
- লবঙ্গ: আপনার খুসখুসে কাশিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য কমাতে লবঙ্গ অনেক সাহায্য করে। মুখে একটি লবঙ্গ রেখে হালকা চিবিয়ে গালের এক পাশে রেখে দিন। লবঙ্গের রস আস্তে আস্তে আপনার গলায় চলে যাবে, আর দেখবেন নিমিষেই অস্বস্তি কাশি কমে যাবে। আপনি যদি তাৎক্ষণিকভাবে আপনার খুসখুস কাশিকে কমাতে চান তবে এটি করতে পারেন।
- হলুদ মিশ্রিত দুধ: রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য পরিমাণে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খাবেন। এটি আপনার কাশি দূর করতে সাহায্য করবে এবং হলুদে থাকা কারকিউমিন ভাইরাস ইনফেকশন এবং গলার খুসখুসে ভাব দূর করে।
- কালো গোলমরিচ ও মধু: আধা চা চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়োর সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খান। এতে করে গোলমরিচ গলার রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং খুসখুসে ভাব দ্রুত প্রশমিত করে।
- দারুচিনির চা খান: আপনি যদি রঙ চা খেতে পছন্দ করেন তবে রঙ চায়ের সাথে কয়েক টুকরো দারুচিনি সেই চায়ে দিয়ে দিন এবং সেই চা পান করুন। দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গলার সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে এবং গলায় দ্রুত আরাম পৌঁছে দেয়।
- সারাদিন কুসুম গরম পানি পান করুন: আপনার কাশিকে দূর করতে ও কমাতে চাইলে সারাদিন যে সময়গুলোতে আপনি পানি পান করে সে সময়গুলোতে সাধারণ পানি পান না করে কুসুম গরম পানি পান করুন। এটি গলাকে আর্দ্র রাখে এবং কাশি উদ্দীপিত হতে দেয় না। আর হ্যাঁ ভুলেও ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করবে না।
- গরম পানির ভাপ: গরম পানির ভাপ নিলে খুসখুসে কাশি, সর্দি এগুলো দূর হয়। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথায় তোয়ালে দিয়ে ঢেকে সেই পানির ভাপ নাক ও মুখে নিন। এটি শ্বাসনালীর শুষ্কতা দূর করে এবং ভেতরে জমে থাকা কফ নরম করে বের করে দেয়।
- ঘুমানোর সময় বালিশ ঠিক করুন: রাতে ঘুমানোর সময় মাথার বালিশ একটু উঁচু করে ঘুমান। এতে গলায় কফ জমার প্রবণতা কম থাকে এবং কাশিও কম ওঠে।
খুসখুসে কাশি কি? সহজ ভাষায় জেনে নিন
- গলায় সব সময় অস্বস্তিকর চুলকানি হয়
- কাশি এলেও কফ আসে না
- কথা বললে বা হাসলে কাশির পরিমাণ বেড়ে যায়
- রাতে শোয়ার পর কাশি বেশি হয়
খুসখুসে কাশি কেন হয়ে থাকে?
খুসখুসে কাশি কখন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
- কাশি যদি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী থাকে
- কাশির সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা শুরু হয়
- শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
- ওজন হঠাৎ কমে যায়
- রাতে অতিরিক্ত ঘাম হয়
কোন খাবারগুলো খেলে এই কাশি বেড়ে যায় এবং কোনগুলো উপকারী খাবার?
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় সম্পর্কে আমরা তো জেনেছি। তবে আমরা কি জানি এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে এই কাশি বেড়ে যায় আবার এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে কাশি দ্রুত কমে যায়। তাই আমাদের জানা উচিত খাবার সাথে খুসখুসে কাশির সরাসরি সম্পর্ক আছে। খাবার সমস্যা বাড়াতে পারে, আবার সঠিক খাবার আরাম দেয়।
যেসব খাবার এড়িলে চলা উচিত:
- অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার ও পানীয়
- ভাজাপোড়া তেলযুক্ত ও ঝাল খাবার
- অতিরিক্ত টক খাবার
- অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনি
- কার্বনেটেড ড্রিংক
যেসব খাবার উপকারী:
- খাঁটি মধু
- ষষ্টিমধু
- আদা ও রসুন
- ভেষজ চা ও মশলা চা
- কুসুম গরম পানি ও স্যুপ
- কলা ও আপেল
- ভাত ও হালকা সবজি
- দুধের সঙ্গে হলুদ
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিরূপ সতর্ক থাকা প্রয়োজন?
শিশুদের ক্ষেত্রে:
- বাচ্চার বয়স যদি ১ বছরের কম তবে কখনোই মধু খাওয়াবেন না। এতে 'বোটুলিজম' নামক মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে। আর বাচ্চার বয়স যদি ১ বছরের বেশি হয় তবে আধা চামচ মধু খাওয়াতে পারেন।
- বিশেষ করে ওষুধে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের কোনো প্রকার ওষুধ যেমন কফ সিরাপ বা সাপোজিটরি দেবেন না।
- শিশুর ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন অথবা আরেকটি কাজ করতে পারেন, গরম পানির ভাপ দিতে পারে তবে খুব সাবধানতার সাথে। গরম পানির ভাপের ফলে নাক ও গলা শুকিয়ে যায় না।
- শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখবেন। ধূমপানের ধোঁয়া সহ যেকোনো ধোঁয়া থেকে দূরে রাখবেন। সিগারেটের ধোঁয়া শিশুদের খুসখুসে কাশির প্রবণতা বাড়ায়।
- শিশুকে নিয়মিত নিউমোনিয়া বা ফ্লুর টিকা প্রদান করুন।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে:
- ওষুধের প্রভাবে বয়স্কদের খুসখুসে কাশির প্রবণতা বেশি থাকে। অনেক বয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেয়ে থাকে। এই ওষধুের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে খুসখুসে কাশি দেখা যায়। আপনার যদি এমনটি হয় তবে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
- অনেক রোগীর হার্টের সমস্যা আছে। যার কারণে রাতে শোয়ার পর কাশির পরিমাণ বেড়ে যায়। একে সাধারণ কাশি ভেবে ভুল করা বিপজ্জনক। তাই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
- বয়স্কদের একটি সমস্যা বেশি পরিমাণে দেখা যায় যে, খাবার গিলতে সমস্যা। খাবার গিলতে সমস্যা হলে অনেক সময় খাবার শ্বাসনালীতে গিয়ে কাশি হতে পারে। তাই তাদের ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া নিশ্চিত করুন।
- বয়স্কদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি থাকে। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত যাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে কাশি না হয়।

