বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন ও করণীয় দেখে নিন
বুক ধড়ফড় করার কারন কী কেন এটি হয়? বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন ও করণীয় দেখে নিন। আমরা আজকে এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তাই ধৈর্য্যের সাথে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
বুক ধড়ফড় এমন একটি সমস্যা যা সকলকে আতঙ্কিত করে দেয়। অনেকে আবার বেশি ভয়ে পেয়ে নিজের প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে। আসলে বিষয়টি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? ধাপে ধাপে আমরা আজকে আলোচনা করব।
পোস্ট সূচিপত্র: বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন ও করণীয় দেখে নিন
বুক ধড়ফড় বলতে কি বোঝায়?
হঠাৎ করে বুকের ভেতর ধক ধক করতে শুরু করলে বেশিরভাগ মানুষই ভয় পেয়ে যায়। মনে হয়
হার্টে কিছু হলো না তো? অনেক সময় এই অনুভূতিটা কয়েক সেকেন্ড থাকে, আবার কখনো
মিনিটের পর মিনিট চলতে থাকে। কেউ একে অবহেলা করে, আবার কেউ অতিরিক্ত আতষ্কিত
হয়ে পড়ে। বুক ধড়ফড় করা সব সময় হার্টের মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ নয়। আবার কিছু
ক্ষেত্রে এটি হতে পারে গুরুতর অসুস্থতার সতর্ক সংকেত। তাই বুক ধড়ফড় নিয়ে আমাদের
পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।
বুক ধড়ফড় বলতে কি বোঝায়? সহজভাবে বললে, বুক ধড়ফড় মানে হলো নিজের হৃদস্পন্দন
অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। আমরা সাধারণত হার্টের বিট অনুভব করি না। তবে যখন
হঠাৎ করে হার্ট খুব দ্রুত, খুব জোরে বা অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হয়, তখনই বুক ধড়ফড়
বলে মনে হয়। অনেক এই বুক ধড়ফড় বিষয়টিকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করে থাকেন, যেমন
বুকের ভেতরে কাঁপুনি, হার্ট লাফিয়ে উঠছে, বুকের মাঝখানে ধাক্কা লাগার মতো
অনুভব, গলায় বা ঘাড়ে স্পন্দনের মতো টের পাওয়া।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বুক ধড়ফড় বিষয়টিকে Palpitations বা ধড়ফড় বলা হয়।
এটি সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে
থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বুক ধড়ফড় নিজে কোনো রোগ নয়। এটি একটি
উপসর্গ। এর পেছনে কারণ থাকতে পারে একাধিক। তাই চলুন বিস্তারিতভাবে এবার জেনে
নেই বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন সম্পর্কে।
বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন
প্রিয় পাঠক এখন আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন নিয়ে।
এই বিষয়টি জানা হয়ে গেলে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করবো বুক ধড়ফড় দূর করার উপায়
নিয়ে।
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ: বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারনের মধ্যে প্রথম কারনটি হচ্ছে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ। বর্তমান সময়ে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় কারন। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ আসে সাধারণত কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক দুশ্চিন্তা, ভবিষ্যৎ এই বিষয়গুলো নিয়ে। এগুলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আর মানসিক চাপের সময় শরীর অ্যাড্রেনালিন নামের হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন হার্টকে দ্রুত স্পন্দিত হতে বাধ্য করে। ফলে বুক ধড়ফড় শুরু হয়।
- অতিরিক্ত চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক পান: চা, কফি, এনার্জি ড্রিংকে ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন একটি উত্তেজক উপাদান, যা হার্টের গতি বাড়িয়ে দেয়। যারা দিনে একাধিক কাপকফি পান করেন বা রাতে এনার্জি ড্রিংক খান, তাদের মধ্যে বুক ধড়ফড়ের সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে খালি পেটে কফি খাওয়া, রাতে দেরিতে চা বা কফি খাওয়া, স্ট্রেসের সময় বেশি ক্যাফেইন। এসব ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- ঘুমের অভাব ও শারীরিক ক্লান্তি: শরীরের ক্লান্তি দূর করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম। শরীর পর্যাপ্ত ঘুম না পেলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়ে হার্টের ওপর। যারা নিয়মিত রাতে কম ঘুমান, রাত জাগেন, শিফট ডিউটি করেন তাদের মধ্যে বুক ধড়ফড়ের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া, একটানা কয়েকদিন ঘুমের অভাব হলে হালকা কাজেও হার্ট দ্রুত স্পন্দিত হতে পারে এবং মানুষ এতে অকারণে ভয় পেয়ে যান।
- পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি: শরীরে পানির অভাব হলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। এতে হার্টকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে বুক ধড়ফড় হতে থাকে। বিশেষ করে গরমের সময় কম পানি পান করা, বেশি ঘাম হওয়া, ডায়রিয়া বা বমি হওয়া। এসব কারণে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দেয়। এগুলো হার্টের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- রক্তস্বল্পতা বা হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া: রক্তস্বল্পতা এমন একটি সমস্যা যা অনেক মানুষ জানতেই পারেন না। শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে অক্সিজেন পরিবহন ঠিকভাবে হয় না। তখন হার্টকে বেশি পরিশ্রম করে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছাতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে বুক ধড়ফড় শুরু হতে পারে। রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে সাধারণত আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায় যেমন সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। অনিয়মিত খাবার, আয়রনের ঘাটতি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এসব কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা: থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি বেশি সক্রিয় হয়ে গেলে যাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম, তখন হার্টের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই অবস্থায় বুক ধড়ফড় খুবই সাধারণ একটি উপসর্গ। থাইরয়েড সমস্যার সাথে আরও যেসব লক্ষণ থাকতে পারে যেমন অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা, ঘুমের সমস্যা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। অনেক মানুষ প্রথমে হার্টের সমস্যা মনে করে কার্ডিওলজিস্টের কাছে যান। পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে মূল সমস্যা থাইরয়েডে। এই কারণেই বুক ধড়ফড় দীর্ঘদিন চললে রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা জরুরি।
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বুক ধড়ফড় সমস্যায় আরেকটি কারন হচ্ছে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সাধারণ কিছু ওষুধের কারনে বুক ধড়ফড় হতে পারে। যেমন সর্দি কাশি কমানোর ওষুধ, হাঁপানির ইনহেলার, ওজন কমানোর ওষুধ, কিছু অ্যালার্জির ওষুধ। এই ওষুধগুলোর মধ্যে এমন উপাদান থাকতে পারে যা হার্টের গতি বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার কয়েকদিন পর থেকেই বুক ধড়ফড় শুরু হয়েছে। ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করলে সমস্যা কমে যায়। তাই চিকিৎসককে সব সময় জানানো উচিত আপনি কী কী ওষুধ খাচ্ছেন।
- হৃদযন্ত্রের ছন্দজনিত সমস্যা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছুটা গুরুতর কারণ এটি। হার্টের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হলে যাকে বলা হয় অ্যারিদমিয়া, তখন বুক ধড়ফড় হতে পারে। এই ধরনের বুক ধড়ফড় সাধারণত যেমন হঠাৎ শুরু হয়, কিছুক্ষণ থাকে, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার সাথে হয়। কিছু ক্ষেত্রে হার্ট খুব দ্রুত বা খুব ধীরে স্পন্দিত হয়। এটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে এই কারণটি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।
বুক ধড়ফড় দূর করার উপায়
প্রিয় পাঠক আমরা উপরে বিস্তারিতভাবে জেনে এসেছি বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন সম্পর্কে। এখন আমরা আলোচনা করবো বুক ধড়ফড় দূর করার উপায় নিয়ে। চলুন তবে বিস্তারিতভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাক।
বুক ধড়ফড় দূর করার কার্যকর ১০টি উপায়:
- আপনি যখনই অনুভব করবেন বুক ধড়ফড় করছে, তখনই শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসে পড়ুন। এরপর নাক দিয়ে লম্বা করে শ্বাস নিন এবং কিছুক্ষণ ধরে রেখে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এভাবে কয়েকবার করলে শরীরের স্নায়ু শান্ত হয় এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে আসে।
- ঠান্ডা পানি শরীরের ভেগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে, যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখে। বুক ধড়ফড় শুরু হলে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন অথবা এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করুন। এটি তাৎক্ষণিক আরাম দিতে অনেক সহায়ক।
- নাক ও মুখ বন্ধ করে এমনভাবে চাপ দিন যেন আপনি মলত্যাগ করছেন বা শরীরের ভেতরের বাতাস বের করার চেষ্টা করছেন। এটি হৃদস্পন্দন দ্রুত কমিয়ে আনতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে হার্টের গুরুতর সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি করবেন না।
- শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন হলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। এতে হার্টকে রক্ত পাম্প করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে বুক ধড়ফড় করতে পারে। সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস করুন।
- চা, কফি, এনার্জি ড্রিংকস বা অতিরিক্ত ধূমপান বুক ধড়ফড় করার অন্যতম প্রধান কারণ। যদি আপনার প্রায়ই এই সমস্যা হয়, তবে কফেইন জাতীয় পানীয় এবং তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি বর্জন করার চেষ্টা করুন।
- শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে বুক ধড়ফড় বাড়ে। কলা, ডাবের পানি, পালং শাক বা বাদামের মতো খাবার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। নিয়মিত এই খাবারগুলো ডায়েটে রাখলে হার্ট ভালো থাকে।
- অতিরিক্ত টেনশন বা অ্যাংজাইটি থেকে বুক ধড়ফড় করা খুব সাধারণ বিষয়। নিয়মিত ইয়োগা, মেডিটেশন বা পছন্দের কোনো কাজ করে নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। মন শান্ত থাকলে শরীরও সুস্থ থাকে।
- শুনতে অবাক লাগলেও, জোরে জোরে কাশি দিলে বুকের ভেতরে এক ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপ হৃদস্পন্দনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। বুক ধড়ফড় শুরু হলে কয়েকবার জোরে কাশির চেষ্টা করুন।
- শরীরের ক্লান্তি হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। নিয়মিত ঘুমের অভাব হার্টবিট অনিয়মিত হওয়ার একটি বড় কারণ।
- খুব ভারী ব্যায়াম নয়, বরং প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি হার্টের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। তবে বুক ধড়ফড় করা অবস্থায় কোনোভাবেই ব্যায়াম করবেন না।
যদি বুক ধড়ফড় করার সাথে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা মাথা ঘোরানোর মতো লক্ষণ
থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বুক ধড়ফড় দূর করার দোয়া
ইসলামিক দৃষ্টিতে মানসিক প্রশান্তি ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে আল্লাহর স্মরণ
বা জিকির অত্যন্ত কার্যকর। পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রা'দের ২৮ নম্বর আয়াতে মহান
আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তর প্রশান্তি পায়।" তাই
যখনই বুক ধড়ফড় বা অস্থিরতা অনুভব করবেন, তখন বেশি বেশি 'সুবহানাল্লাহ',
'আলহামদুলিল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করতে পারেন। এছাড়া একটি বিশেষ দোয়া
যা নবী করিম (সা.) বিপদের সময় পড়তেন, সেটি হলো: "ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু
বিরাহমাতিকা আসতাগিস" (অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের উসিলায়
আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি)। এছাড়া, নামাজের পর বুক ও হার্টের ওপর ডান হাত
রেখে সূরা ফাতিহা পাঠ করাও মনের ভয় ও অস্থিরতা দূর করতে সাহায্য করে। আর সূরা
ফাতিহাকে রোগ মুক্তি সর্বোচ্চ দোয়া হিসেবে ধরা হয়। মূলত আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা
রাখলে মনের চাপ অনেকটাই কমে আসে, যা দ্রুত হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করতে ভূমিকা
রাখে।
শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক, আমরা এই আর্টিকেলে আপনাদের বিস্তারিতভাবে জানানোর চেষ্টা
করেছি বুক ধড়ফড় করার ৮টি কারন ও করণীয় দেখে নিন সম্পর্কে। বুক ধড়ফড়
এমন একটি অনুভূতি যা একবার হলেও প্রায় সবার হয়েছে। অনেক সময় এটি সাময়িক
এবং নিরীহ কারণে হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার
সংকেত হতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা দেখেছি, দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে
পানিশূন্যতা, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড সমস্যা কিংবা হার্টের ছন্দজনিত অসুবিধা
পর্যন্ত নানা কারণে বুক ধড়ফড় হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের শরীরের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া। যদি
বুক ধড়ফড় মাঝে মাঝে হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়, তাহলে সাধারণ জীবনযাপনে
কিছু পরিবর্তন আনলেই অনেক সময় সমস্যা কমে যায়। কিন্তু যদি এটি ঘন ঘন হয়,
দীর্ঘস্থায়ী হয় বা এর সাথে অন্য কোনো উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দেরি না করে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই পারে বড় ঝুঁকি এড়াতে।


GEN INFO IT-এর নিয়মনীতি মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url