সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?

বাচ্চাদের ঘন ঘন সর্দি লাগা কিসের লক্ষণ

প্রিয় পাঠক, আপনার কি সর্দির সাথে সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে? সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি তার সঠিক ব্যাখ্যা আপনি কি জানেন? যদি না জেনে থাকেন তবে চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

সর্দির-সাথে-নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়ার-কারণ-কি

আমরা এই আর্টিকেলে সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ, এটি কখন বিপজ্জনক, কিভাবে এটিকে প্রতিরোধ করা যায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেওয়া জরুরি এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা করব।

পোস্ট সূচিপত্র: সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?

সর্দির সাথে রক্ত আসার কারণ বিষয়টি কি স্বাভাবিক হতে পারে?

আমাদের অনেকের শীতকালে বা সর্দি লাগার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করি যে, নাক ঝাড়ার পর কিংবা ঘুম থেকে উঠার পর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। তখন আমাদের মনে একটি প্রশ্ন আসে, এটি কি স্বাভাবিক নাকি কোনো রোগের লক্ষণ? সংক্ষেপে যদি এর উত্তর দেই তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক কিছু নয়। তবে এটি হওয়ার কারণ কি তা আমাদের জানা জরুরি।

আমাদের সর্দি হলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লি বা মিউকাস খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এই ঝিল্লির ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালী থাকে। সর্দি, কাশি, বারবার নাক ঝাড়া, হাঁচি বা শুষ্ক বাতাসের কারণে এই রক্তনালীগুলো সহজেই ফেটে যেতে পারে। ফলে অল্প অল্প রক্তপাত দেখা যায়। আপনাদের মধ্যে বিশেষ করে যারা 'সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?' প্রশ্নটি করেন তাদের বেশিরভাগই হঠাৎ রক্ত দেখে আতঙ্কিত হন। বাস্তবে, চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ৭০-৮০ শতাংশ কারণই সাধারণ ও সাময়িক।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। স্বাভাবিক মানেই যে অবহেলা করব তা নই। যদি রক্তপাত বারবার হয়, অনেকক্ষণ ধরে চলে বা অন্য উপসর্গ এর সাথে যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার, নয়তো বড় বিপদ হতে পারে।

সর্দির সময় আমাদের নাকের ভেতরে কী ঘটে?

আচ্ছা সর্দির সময় আমাদের নাকের ভেতরে কী ঘটে জানেন আপনারা? আসলে এই বিষয়টি বুঝলে পুরো সমস্যাটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের নাকের ভেতরের আস্তরণ সবসময় আর্দ্র থাকে। এই আর্দ্রতা নাককে ধুলোবালি, জীবাণু ও ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করে থাকে।

সর্দি হলে সাধারণত আমাদের যা ঘটে- নাক দিয়ে ঝড়ঝড় করে পানি পড়ে, শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায়, নাক বন্ধ হয়ে যায়, ঘন ঘন নাক ঝাড়তে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নাকের ভেতরের আর্দ্রতা কমে যায়। শুষ্কতা বাড়ে। ফলে ভেতরের রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। একজন ENT অর্থাৎ Ear, Nose, and Throat বিশেষজ্ঞের মতে, শীতকাল সর্দি নিয়ে আসা রোগীদের বড় অংশ নাকের ভেতরের শুষ্কতা সমস্যায় ভোগেন। এই শুষ্কতা যখন চরম পর্যায়ে চলে যায়, তখন সামান্য চাপেই রক্ত বের হতে পারে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিটার বা এসি ব্যবহার করা। অনেকেই শীতে ঘরের ভেতর গরম রাখার জন্য হিটার বা হট এসি ব্যবহার করেন, যা নাকের ভেতরের আর্দ্রতা আরো কমিয়ে দেয়। ফলে সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?

আমরা উপরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি যা সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি? এই বিষয়টিকে পরিষ্কারভাবে আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে। এখন আমরা আসল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, তাই চলুন বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে যেমন নাকের ভেতরের প্রদাহ, বারবার জোরে নাক ঝাড়া, নাকের ভেতরের শুষ্কতা, ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া, এলার্জিক রাইনাইটিস, ভাইরাস সর্দি বা ফ্লু, নাক খোঁটার অভ্যাস, হিটার বা এসির শুষ্ক বাতাস। মূলত এসব কারণে জন্য সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে থাকে। এই কারণগুলোকে যদি একটু বিস্তারভাবে আপনাদের জানায় তবে-

  • নাকের ভেতরের প্রদাহ: আপনার যখন সর্দি হয়, তখন নাকের ভেতরের পাতলা পর্দা বা মিউকাস মেমব্রেন স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আর সংক্রমণের কারণে ওই স্থানের ছোট ছোট রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেই সেখান থেকে রক্ত বের হয়ে থাকে।
  • বারবার জোরে নাক ঝাড়া: আমাদের অনেকের সর্দি হলে নাক পরিষ্কার করার জন্য আমরা বারবার এবং জোরে জোরে নাক ঝাড়ি। এই জোরে জোরে নাক ঝাড়া কারণে আমাদের নাকের ভেতরে একটি চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ফেটে যায়। বিশেষ করে সর্দি যদি শুকিয়ে যায় বা নাকে শক্ত আবরণ তৈরি করে, তবে সেটি পরিষ্কার করতে গিয়েও রক্তপাত হয়ে থাকে।
  • নাকের ভেতরের শুষ্কতা: আমাদের আগের একটি পয়েন্টে বলেছিলাম যে, শীতের শুষ্ক বাতাস বা ঘরকে গরম রাখার জন্য হিটার ব্যবহার করি। আর এই হিটার নাকের ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। সর্দি থাকা অবস্থায় যদি নাকের ভেতরটা অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়, তবে সেখানে আটল সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে রক্তপাত শুরু হয়।
  • নাক খোঁটার অভ্যাস: আমরা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি পরিমাণে লক্ষ্য করি। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা সর্দির সময় নাক খোঁটে। এতে নাকের ভেতরের নরম টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়।
  • ঔষধের প্রভাব: সর্দি কমানোর জন্য আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের নেজাল স্প্রে বা ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার করি। এই ঔষধগুলো নাক বন্ধ হওয়া কমালেও নাকের ভেতরটা অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে, যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মূলত এই কারণগুলোর কারণে সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে থাকে। আর হ্যাঁ এই কারণগুলো যদি একটানা চলতে থাকে তবে সমস্যা বাড়তে পারে এবং অবস্থা বিগতিক হতে থাকে। তাই শুরুতেই সচেতন হওয়া জরুরি।

এলার্জি ও সাইনাস সমস্যার সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্পর্ক

প্রিয় পাঠক, আমরা উপরে বিস্তারিতভাবে জেনে আসলাম সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি? সে বিষয়ে। তবে আরো কিছু কারণ রয়েছে যা আমরা এককভাবে আপনাদের জানাতে চাই। চলুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

আপনি কি জানেন এলার্জি ও সাইনাস সমস্যার সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে? অনেক সময় সর্দি আসলে সর্দি হয় না বরং এলার্জি বা সাইনাসের সমস্যা হয়ে থাকে। এই বিষয়টি সাধারণ মানুষ প্রায়ই বুঝতে পারে না। এলার্জিক রাইনাইটিস হলে নাকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ থাকে। এই প্রদাহ নাকের ভেতরের রক্তনালীগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এখন আপনি কিভাবে বুঝবেন যে এটি মূলত এলার্জির জন্য হচ্ছে? এলার্জির ক্ষেত্রে সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখে বুঝে নিতে হয় যেমন-

  • বারবার হাঁচি হওয়া
  • অতিরিক্ত নাক চুলকানো
  • নাক দিয়ে স্বচ্ছ পানি পড়া
  • চোখ চুলকানো বা পানি পড়া

এই লক্ষণগুলো যদি লক্ষ্য করেন তবে বুঝবেন এলার্জির কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। অনেকে আছে যারা এই অবস্থায় দীর্ঘদি ধরে অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে স্টেরয়েড স্প্রে ভুলভাবে বা বেশি দিন ব্যবহার করলে নাকের ভেতরের আস্তরণ পাতলা হয়ে যায়। ফলে সামান্য আঘাতে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়।

সাইনাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো জটিল হয়ে থাকে। সাইনাস মূলত আমাদের মাথার খুলির ভেতরে থাকা কিছু ফাঁপা, বায়ুপূর্ণ গহ্বর বা থলি, যা নাকের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং বাতাসকে আর্দ্র ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। সাইনাস ইনফেকশন হলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা ঘন হয় এবং বের হতে চায় না। আর সে সময় জোরে জোরে নাক ঝাড়ার ফলে রক্তনালী ফেটে যায় এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হয়।

কখন এই বিষয়টি বিপদের লক্ষণ হতে পারে?

প্রিয় পাঠক, আমরা তো বিস্তারভাবে জেনে গেছি সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি? কারণ যেহেতু জানা হয়ে গেছে এখন আমাদের জানতে হবে কখন এই বিষয়টি বিপদের লক্ষণ হতে পারে সে সম্পর্কে। চলুন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

বিপদের সতর্ক সংকেতগুলো:

  • আপনি যদি লক্ষ্য করেন, প্রতিদিন বা ঘন ঘন সর্দির সাথে রক্ত পড়ে।
  • ১০-১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে রক্ত পড়া এবং রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়া।
  • রক্তের সাথে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দেওয়া।
  • উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হওয়া।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়ায় রক্ত পাতলা বন্ধ করার ঔষুধ সেবন করা।
  • নাক বা মুখে আঘাতের বা ক্ষত হওয়া।

উপরের লক্ষণগুলো যদি আপনি লক্ষ্য করে থাকেন তবে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখান। কেননা চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি সে সময় গাফিলতি দেখান বা অজুহাত দেখান তবে সেটি পড়ে বড় আকারের সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। তাই উপরের লক্ষণগুলোর কোনোটি আপনার ক্ষেত্রে যদি মিলে যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রতিরোধের কিছু কার্যকর ও ঘরোয়া উপায়

প্রিয় পাঠক, সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি? বিষয়টি যেমন জানা জরুরি, তেমনি জরুরি হলো কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। নিচে সহজ ও সাজানোভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

সর্দির-সাথে-নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়া-প্রতিরোধের-কিছু-কার্যকর-ও-ঘরোয়া-উপায়

সর্দির সাথে নাক দিয়ে ক্ত রক্ত পড়ার সমস্যাটি সমাধানে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহজ কিছু অভ্যাসে এটিকে সমাধান করতে পারি। কথা না বাড়িয়ে তাৎক্ষণিক কিছু কার্যকর সমাধান আপনাদের জানিয়ে দেই যা সাথে সাথে আপনাদের ঘটনাকালীন সময় করতে হবে:

  • নাক দিয়ে রক্ত পড়লে মাথা পেছন দিকে হেলিয়ে দেবেন না, এতে রক্ত গলার ভেতরে চলে যেতে পারে। বরং শরীর কিছুটা সামনে ঝুঁকিয়ে বসুন মানে মাথা সামান্য সামনে ঝুঁকান।
  • নাকের নরম অংশটি আঙ্গুল দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরুন এবং অন্তত ১০ মিনিট এভাবে থাকুন। এই সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিন।
  • নাকের ওপর বা কপালে বরফের সেঁক দিন। এতে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্ত পড়া দ্রুত বন্ধ হয়।
  • জোরে জোরে নাক ঝাড়া বন্ধ করুন, জোরে জোরে নাক ঝাড়লে সমস্যা আরো বাড়বে।

আপনি দৈনন্দিন কিছু যত্নের মাধ্যমেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন, যা মূলত ঘরোয়া উপায়। আর আমরা বর্তমানে এসব সমস্যায় ঘরোয়া উপায় বা সমাধানগুলোর উপর বেশি জোর দিয়ে থাকি, যেমন

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
  • নাক আর্দ্র রাখতে স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা।
  • ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখা।
  • নাক খোঁটা অভ্যাস ত্যাগ করা।
  • ধুলোবালি থেকে দূরে থাকা এবং মাস্ক ব্যবহার করা।
  • অতিরিক্ত গরম চা বা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
  • ধূমপান বা নেশা জাতীয় জিনিস থেকে দূরে থাকা।
  • নাক পরিষ্কার রাখা।

একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আপনি আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো শুরু করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

কোন সময় চিকিৎসকের নিকট যাওয়া আবশ্যক?

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যায় কখন চিকিৎসকের নিকট যাওয়া আবশ্যক বা জরুরি? এই প্রশ্নটির পরিষ্কার উত্তর জানা আমাদের সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। নিচে কিছু পরিস্থিত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হলো যার কোনোটি যদি আপনি লক্ষ্য করেন তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার লক্ষণসমূহ:

  • যদি দেখেন ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছে না।
  • প্রচুর রক্তক্ষণ হচ্ছে অথবা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং মাথা ঘুরছে।
  • সপ্তাহে একাধিকবার রক্তপাত হচ্ছে এবং বেশি সময় ধরে হচ্ছে।
  • একবারে অনেক বেশি রক্ত পড়ছে।
  • নাকের ভেতরে ব্যথা করছে এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
  • সর্দি ভালো হয়ে গেলেও রক্তপাত বন্ধ হচ্ছেনা।

উপরের এই লক্ষণগুলো যেকোনো একটি যদি লক্ষ্য করেন তবে সময় না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যান। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে আপনাকে পরামর্শ ও জরুরি ভিত্তিতে রক্ত বন্ধ করার ঔষধ প্রদান করবেন, যা রক্ত পড়া বন্ধে কাজ করবে।

শেষ মন্তব্য

প্রিয় পাঠক, আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নিলাম সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?, এটি কেন হয় এবং এর কার্যকর প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে। সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার বিষয়টি বেশিরভাগ সময়ই ভয়ের কিছু নয়। কেন নয় আমরা সে সম্পর্কে জেনেছি। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো লক্ষ্য করলে আমাদের বুঝতে হবে সমস্যাটি গুরুতর এবং দ্রুত এর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাই সমস্যা যদি বেশি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সময় নিবেন না, বরং দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যাবেন।

প্রিয় পাঠক মনে রাখবেন, সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস ও সময়মতো চিকিৎসাই এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url