সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি বিস্তারিত জেনে নিন
সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি?
সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি এ সম্পর্কে খুঁজতে খুঁজতে আপনি কি হয়রান হয়ে গেছেন? সঠিক তথ্য কোথাও পাচ্ছেন না? চিন্তা নেই, আমরা আজকে এই আর্টিকেলের মধ্যে নাকের সর্দি দূর করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। এছাড়া, চিকিৎসা পরামর্শ কখন নিতে হবে, শিশু ও বড়দের জন্য নিরাপদ সমাধান এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন সবকিছু নিয়ে আমরা জানবো।
নাকের সর্দি দূর করার উপায় বা নাকের সর্দি কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনি যদি বিস্তারিতভাবে জানতে চান, তবে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন। ইনশাআল্লাহ আপনি একটি সঠিক ও কার্যকর সমাধান পাবেন বলে আমরা আশা করছি।
পোস্ট সূচিপত্র: সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি?
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যায় কেন?
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের কী কী সমস্যা হতে পারে?
- নাকের সর্দি দূর করার ঘরোয়া উপায় বা সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি?
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত?
- কখন নাক বন্ধ হওয়া নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি?
- নাক বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কি করা দরকার?
- শেষ মন্তব্য
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যায় কেন?
- ভাইরাস সর্দি বা ফ্লু
- অ্যালার্জি
- ঠান্ডা বা আবহাওয়ার পরিবর্তন
- সাইনাস ইনফেকশন
- ধুলো, ধোঁয়া বা দূষণ
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের কী কী সমস্যা হতে পারে?
- প্রথম সমস্যার কথা যদি বলি, নাক বন্ধ হয়ে গেলে ঠিকমতো নিশ্বাস নিতে পারি না, আর নিশ্বাস নিতে না পারলে ঘুমের সমস্যা শুরু হয়। ফলে রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে গলা শুকিয়ে যায়।
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কথা বলতে অনেক অসুবিধা হয়। কথা বলতে গেলে অনেক সমস্যা তৈরি হয় এবং বেশি কথা বলা যায় না, অল্প কথা বলতে গেলে হাপিয়ে যেতে লাগে।
- আপনি কি জানেন নাক বন্ধ থাকলে স্বাদের অনুভূতি কমে যায়? আসলেই, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাক তার স্বাদ বা ঘ্রণ নেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে। আর ঘ্রাণশক্তি ঠিকমতো কাজ না করলে খাবারের স্বাদ বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
- এছাড়া, নাক বন্ধ থেকে মাথাব্যথা শুরু হয়, কোনো কাজে মনোযোগ থাকে না, সবক্ষেত্রে ক্লান্তি দেখা যায়। কাজ বা পড়াশোনায় মন বসে না, যা অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারে।
- শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায়। তাদের নাক বন্ধ থাকলে ঠিকমতো খেতে পারে না, ঘুমাতে পারে না এবং বিরক্ত হয়ে পড়ে। আপনি কি জানেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নাক বন্ধ সমস্যা থাকলে কানের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে?
- আরো কিছু সমস্যা রয়েছে যেমন- সব সময় মাথা ভারী লাগা, গলা ব্যথা করা, শুকনো কাশি হওয়া, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হওয়া, ঘন ঘন ঘুম থেকে জেগে ওঠা ইত্যাদি।
নাকের সর্দি দূর করার ঘরোয়া উপায় বা সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি?
করণীয় সমূহ:
- সর্দিতে আপনার নক বন্ধ হয়ে থাকলে সর্বপ্রথম আপনি গরম পানির ভাপ নিন। গরম পানির ভাপ নিলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা নরম হয় এবং সহজে বেরিয়ে আসে। গরম পানির ভাপ নেওয়ার ফলে আপনার নাক বন্ধ থাকার সমস্যা সমাধান হবে। আপনার সর্দি যদি পানির মতো হয়ে থাকে তবে গরম পানির ভাপ নেওয়ার ফলে সেটি ঘন হয়ে যাবে বা ভেতরে পেকে যাবে এবং সর্দি দ্রুত বেরিয়ে আসবে। দিনে দুই থেকে তিনবার ভাব নিলেই আপনি অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করবেন। চাইলে সেই পানিতে হালকা লবণ যোগ করে নিতে পারেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একটু সর্তকতার সাথে এটি করবেন।
- আপনি যে সময়গুলোতে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করেন, যেমন সকালে, দুপুরে, বিকালে, সন্ধ্যা ও রাতে ঘুমানোর পূর্বে, সে সময়গুলোতে হালকা লবণ কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে আপনার নাকে জমে থাকা ভাইরাস পরিষ্কার হয়ে যাবে। অথবা আপনি নরমাল স্যালাইনও ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি।
- আরেকটি কার্যকর টিপস হচ্ছে, কালোজিরা। কালোজিরার এতটাই উপকারিতা যা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। সর্দিতে কালোজিরার ভূমিকা অনেক বেশি। আপনি কালোজিরা চিবিয়ে খাবেন, আর যদি পারেন তবে কালোজিরার তেল মাথায় দিবেন। আপনি চাইলে কালোজিরা ঘ্রণ নাকের মধ্যে নিতে পারেন, যা আপনার সর্দি দূর করতে অনেক সাহায্য করবে।
- চেষ্টা করবেন গরম পানি পান করার। চায়ের সাথে আদা, লেবু, লবঙ্গ মিশিয়ে খাবেন। এরপর তুলসি পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করবেন। ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত থাকবেন এবং উষ্ণ বা গরম পরিবেশে থাকার চেষ্টা করবেন।
- ধুলোবালি, ময়লা, অতিরিক্ত পানি নাড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন এবং নিজের শরীরের যত্ন ঠিক মতো নিবেন।
- ঘুমানোর সময় মাথা একটু উঁচু করে ঘুমাবেন।
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত?
আমরা উপরে বিস্তারিতভাবে জেনে এসেছি সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করণীয় কি? তবে আমাদের আলোচনা এখনো কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি, বরং আরো বাকি রয়েছে। আমরা এখন আলোচনা করব, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত? আমরা হয়তো অনেকে জানি না নাক বন্ধ সমস্যার সমাধানে খাবারও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না। আমরা হয়তো এটিও জানি না, সঠিক খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে।
সর্দিতে নাক বন্ধ সমস্যায় গরম ও ঝাল খাবার অনেক সময় নাক খুলে দিতে অনেক সাহায্য করে। ঝাল খাবার হিসেবে রয়েছে স্যুপ বা গরম ঝোলা। এছাড়া, আদা, রসুন ও হলুদ ঝাল হওয়ায় এগুলো প্রাকৃতিকভাবে নাক বন্ধ সমস্যা সমাধানে ভালো কাজ করে। তাই সর্দির সময় এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো খাবারে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সর্দির সময় বা নাক বন্ধ সমস্যায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, লেবু, আমলকি অনেক ভূমিকা পালন করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আপনার যদি গলার সমস্যা হয়ে থাকে বা কাশি হয় তবে মধু খেতে পারেন, যা গলার আরামে কাজ করে এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে।
কখন নাক বন্ধ হওয়া নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি?
নাক বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কি করা দরকার?
- সব সময় হাত পরিষ্কার রাখবেন। কেননা ভাইরাস সাধারণত হাতের মাধ্যমেই নাক বা মুখে প্রবেশ করে। তাই বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়ার অভ্যাস সর্দি প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে।
- আপনার ঘরের ভেতরের বাতাস যদি খুব শুষ্ক হয় তবে নাকের ভেতরের ঝিল্লি সহজে শুকিয়ে যায়। তাই প্রয়োজনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। আর বিশেষ করে, নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করবেন এবং ঘরে ধুলোবালি প্রবেশ করতে দিবেন না।
- এছাড়া প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাবেন। সঠিক সময় বিছানায় ঘুমাতে যাবেন এবং সঠিক সময় ঘুম থেকে উঠবেন। মনে রাখবেন, শরীর সুস্থ রাখতে ঘুমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত হালকা-পাতলা ব্যায়াম করবেন। ব্যায়াম করলে শরীরের মাংসপেশী সুস্থ থাকে এবং মনও প্রফুল্ল থাকে।
- যারা ধূমপান করেন তারা ধূমপান থেকে বিরত থাকবেন। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি থেকে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- সর্দির সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। গোসল করা, মুখ ধোয়া, খাওয়া এসব ক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করবেন।
- বাহিরে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন এবং বাহির থেকে বাড়িতে এসে পরিষ্কার গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিবেন।

